2 রাজাবলি
গ্রন্থস্বত্ব
1 এবং 2 রাজাবলি আসলে একটিই পুস্তক ছিল। যখন যিহুদী পরম্পরা যিরমিয় ভাববাদীকে 2 রাজাবলির লেখক হিসাবে কৃতিত্ব দেয়, তখন বর্তমান বাইবেল পন্ডিতগণ এক দল অজ্ঞাতনামা লেখকদের গোষ্ঠীকে রচনার জন্য আরোপিত করে যাদেরকে দ্বিতীয় বিবরণীর লেখক বলা হয়। 2 রাজাবলি দ্বিতীয় বিবরণীর বিষয় কে অনুসরণ করে: ঈশ্বরের প্রতি আজ্ঞাকারিতা আশ্বীর্বাদ নিয়ে আসে, অবাধ্যতা শ্রাপ নিয়ে আসে।
রচনার সময় এবং স্থান
আনুমাণিক 590 থেকে 538 খ্রিষ্টপূর্বাব্দের মধ্যবর্তী সময়।
এটা লেখা হয়েছিল যখন প্রথম মন্দিরটি তখনও দাঁড়িয়ে ছিল (1 রাজাবলি 8:8)।
গ্রাহক
ইস্রায়েলের লোকেরা, বাইবেলের সমগ্র পাঠকবৃন্দ।
উদ্দেশ্য
2 রাজাবলির পুস্তকটি 1 রাজাবলির জের হচ্ছে। এটা বিভক্ত রাজত্বের (ইস্রায়েল এবং যিহুদা) ওপরে রাজাদের কাহিনীকে চালিয়ে নিয়ে যায়। 2 রাজাবলি পুস্তকটি শেষ হয় যথাক্রমে অশুরিয় এবং বাবেলের নিকট ইস্রায়েল এবং যিহুদার লোকেদের চূড়ান্ত পতন এবং নির্বাসনের সাথে।
বিষয়
ছিন্ন ভিন্ন হওয়া
রূপরেখা
1. ইলীশার সেবাকার্য্য — 1:1-8:29
2. আহাবের বংশের শেষ — 9:1-11:21
3. যিহোয়াশ থেকে ইস্রায়েলের সমাপ্তি — 12:1-17:41
4. যিহিষ্কেল থেকে যিহুদার সমাপ্তি — 18:1-25:30
1
অহসিয়র ওপরে সদাপ্রভুর বিচার।
আহাবের মৃত্যুর পর মোয়াব ইস্রায়েলের অধীনে আর থাকলো না। আর অহসিয় শমরিয়াতে তাঁর বাড়ির উপরের কুঠরীর জানালা দিয়ে নীচে পড়ে গিয়ে অসুস্থ হলেন; তাতে তিনি কয়েকজন দূতকে বলে পাঠালেন, “যাও, ইক্রোণের দেবতা বাল্‌-সবূবের কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা কর যে, এই অসুস্থতা থেকে আমি সুস্থ হব কি না?” কিন্তু সদাপ্রভুর দূত তিশ্‌বীয় এলিয়কে বললেন, “তুমি গিয়ে শমরিয়ার রাজার দূতেদের সঙ্গে দেখা করে তাদের বল, ‘ইস্রায়েলের মধ্যে কি ঈশ্বর নেই যে, তোমরা ইক্রোণের দেবতা বাল্‌-সবূবের কাছে জিজ্ঞাসা করতে যাচ্ছ?’ তাই সদাপ্রভু বলছেন, ‘তুমি যে খাটে উঠে শুয়েছ, তা থেকে তুমি আর নামবে না, তুমি নিশ্চয়ই মারা যাবে’।” এই বলে এলিয় চলে গেলেন। আর সেই ভাববাদীদের মণ্ডলী রাজার কাছে ফিরে আসলে তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরা কেন ফিরে আসলে?” তারা বলল, “একজন ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে দেখা করে বললেন, ‘যে রাজা তোমাদের পাঠিয়েছেন, তোমরা তাঁর কাছে ফিরে গিয়ে বল যে’, সদাপ্রভু এই কথা বলেন, ‘ইস্রায়েলের মধ্যে কি ঈশ্বর নেই যে, তুমি ইক্রোণের দেবতা বাল্‌ সবূবের কাছে জিজ্ঞাসা করতে লোক পাঠিয়েছ? অতএব তুমি যে খাটে উঠে শুয়েছ সেখান থেকে আর নামবে না; তুমি নিশ্চয়ই মারা যাবে’।” রাজা তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, “যে লোকটা তোমাদের সঙ্গে দেখা করে এই কথা বলেছে সে দেখতে কেমন?” উত্তরে তারা বলল, “তার গা লোমে ভরা ছিল এবং তাঁর কোমরে ছিল চামড়ার কোমর-বন্ধনী।” রাজা বললেন, “সে তিশ্‌বীয় এলিয়।” এরপর রাজা একজন সেনাপতি ও তাঁর পঞ্চাশজন সৈন্যকে এলিয়ের কাছে পাঠিয়ে দিলেন, এলিয় তখন একটা পাহাড়ের উপরে বসে ছিলেন। সেই সেনাপতি এলিয়ের কাছে উঠে গিয়ে বললেন, “হে ঈশ্বরের লোক, রাজা আপনাকে নেমে আসতে বলেছেন।” 10 উত্তরে এলিয় সেই সেনাপতিকে বললেন, “আমি যদি ঈশ্বরেরই লোক হই, তবে আকাশ থেকে আগুন নেমে এসে তোমাকে ও তোমার পঞ্চাশজন লোককে পুড়িয়ে ফেলুক।” তখন আকাশ থেকে আগুন নেমে এসে সেই সেনাপতি ও তার পঞ্চাশজন সৈন্যকে পুড়িয়ে ফেলল। 11 পরে রাজা আবার একজন সেনাপতি ও তাঁর পঞ্চাশজন সৈন্যকে এলিয়ের কাছে পাঠালেন। সেই সেনাপতি এলিয়কে বললেন, “হে ঈশ্বরের লোক, রাজা আপনাকে এখনই নেমে আসতে বলেছেন।” 12 উত্তরে এলিয় বললেন, “আমি যদি ঈশ্বরেরই লোক হই তবে আকাশ থেকে আগুন নেমে এসে তোমাকে ও তোমার পঞ্চাশজন সৈন্যকে পুড়িয়ে ফেলুক।” তখন আকাশ থেকে আগুন নেমে এসে তাকে ও তার পঞ্চাশজন সৈন্যকে পুড়িয়ে ফেলল। 13 পরে রাজা তৃতীয় বার একজন সেনাপতি ও তাঁর পঞ্চাশজন সৈন্যকে পাঠালেন। এই তৃতীয় সেনাপতি উপরে উঠে গিয়ে এলিয়ের সামনে হাঁটু পেতে অনুরোধ করে বলল, “হে ঈশ্বরের লোক, আমি অনুরোধ করি, আমার ও আপনার এই পঞ্চাশজন দাসের প্রাণ রক্ষা করুন। 14 দেখুন, আকাশ থেকে আগুন পড়ে এর আগে দুজন সেনাপতি ও তাদের পঞ্চাশ পঞ্চাশ জনকে পুড়িয়ে ফেলেছে। কিন্তু এবার আপনি আমার প্রাণ রক্ষা করুন।” 15 তখন সদাপ্রভুর দূত এলিয়কে বললেন, “তুমি ওর সঙ্গে নেমে যাও, ওকে ভয় কোরো না।” তখন এলিয় তাঁর সঙ্গে নেমে রাজার কাছে গেলেন। 16 তিনি রাজাকে বললেন, “সদাপ্রভু এই কথা বলেন, ‘যে, তুমি ইক্রোণের দেবতা বাল্‌-সবূবের কাছে জিজ্ঞাসা করবার জন্য দূতদের পাঠিয়েছিলে; এর কারণ কি এই যে, ইস্রায়েলের মধ্যে ঈশ্বর নেই, যাঁর বাক্য জিজ্ঞাসা করা যায়? তাই তুমি যে বিছানায় শুয়ে আছ, তা থেকে আর নামবে না। তুমি নিশ্চয়ই মারা যাবে’।” 17 আর এলিয়কে দিয়ে সদাপ্রভুর বলা বাক্য অনুযায়ী অহসিয় মারা গেলেন। অহসিয়ের কোন ছেলে ছিল না বলে তাঁর জায়গায় যিহোরাম রাজা হলেন। যিহূদার রাজা যিহোশাফটের ছেলে যিহোরামের রাজত্বের দ্বিতীয় বছরে, রাজা হলেন। 18 অহসিয়ের বাকি সমস্ত কাজের কথা ইস্রায়েলের রাজাদের ইতিহাস বইতে কি লেখা নেই?